Thursday , September 20 2018
Home / প্রথম পাতা / প্রিয় মানুষের সাথে কিছুক্ষন

প্রিয় মানুষের সাথে কিছুক্ষন

কিছু শিক্ষক থাকেন যারা গল্পচ্ছলে শিক্ষা দিয়ে থাকেন, ছাত্রদের কাছে থাকেন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে । ছাত্রদের শুধু পাঠ্যপুস্তক ভিত্তিক শিক্ষাই দেন না; নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার দিকেও তিনি দেন সমান মনোযোগ । হ্যাঁ পাঠক বলছি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর “ড. মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খান” এর কথা যিনি বায়োকেমেস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান ছিলেন । ছাত্রজীবনে শুধু লেখাপড়ায় নিজেকে আবদ্ধ রাখেন নি। বিভিন্ন সৃজনশীল প্রতিভায় নিজেকে করেছেন অনন্য । বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, সাধারন জ্ঞান প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান প্রজেক্ট সহ অসংখ্য প্রতিযোগিতায় পেয়েছেন সেরার পদক । নিউ ক্যসেল ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাজ্যের হয়ে পেয়েছেন YES (Young Entrepreneurs Scheme) কম্পিটিশন এর বেস্ট প্রেজেন্টেরের এওয়ার্ড – ১৫৭ টি টিমকে পেছনে ফেলে হয়েছিলেন চ্যাম্পিয়নদের একজন । স্যারের সবচেয়ে বিশেষত্ব হলো তার প্রতিটি গল্পেই এক একটি অন্তর্নিহিত ভাব থাকে যা থেকে ছাত্ররা শেখে অনেক কিছু ।

প্রিয় মুখ পর্বে “ড. মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খান” এর প্রথম সাক্ষাতকার টি প্রকাশিত হয়েছিল গত ২২ নভেম্বর, আজ প্রকাশিত হচ্ছে দ্বিতীয় পর্ব, সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এগ্রিভিউ২৪.কম  এর রিপোর্টার আনোয়ারুল ইসলাম খোকন

(যারা প্রথম পর্বটি মিস করেছেন তারা চাইলে সেই সাক্ষাতকারটি পড়তে পারবেন এই লিংকে ক্লিক করেঃ https://goo.gl/jmRZi7)

 

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ বায়োকেমেস্ট্রির প্রতি ভালোবাসাটা কি ভাবে?

ড. মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খানঃ  আমি ছোট থেকেই পাঠ্যপুস্তক ছাড়া অন্যান্য বই পড়তাম, তো সত্যজিৎ রায়ের “প্রফেসর শন্কু” নামের এক বই ছিলো । সেখানে বায়োকেমেস্ট্রি সম্বন্ধে অনেক কিছু লিখা ছিলো, যা মনের মাঝে বায়োকেমেস্ট্রির প্রতি ভালোবাসা এনে দেয়। পরবর্তিতে ইচ্ছে ছিলো বায়োকেমেস্ট্রি তে পড়বো, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমি ঢাবি তে বায়োকেমেস্ট্রি সাব্জেক্ট পেলাম না । পরে যখন বাকৃবি তে ভর্তি হলাম সেদিন প্রথম যে ক্লাসটি ছিলো তা হলো বায়োকেমেস্ট্রি । বায়োকেমেস্ট্রি তে ভালো হওয়ায় অনেকেই আমার কাছে বায়োকেমেস্ট্রি বুঝতে আসত।বায়োকেমেস্ট্রির প্রতি ভালোবাসা থেকে আজ আমি বায়োকেমেস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের ডিন ।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ ছোটবেলার জীবনটা কেমন ছিলো আপনার ?

ড. মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খানঃ ছোটবেলার জীবনটা তো অবশ্যই সুন্দর ছিলো অনেক । আমি প্রাথমিক পর্যায় কাটিয়েছি সৌদি আরবে। সেখানে আমি প্রতি বছর দুটি পুরস্কার নিয়মিত পেতাম। একটি হলো জোকসের জন্য আর একটি পড়ালেখার জন্য। মাধ্যমিক জীবনে আমি দেশে ফিরে আসি। আমার গ্রামের বাসা কুষ্টিয়ার ভেড়ামাড়া থানায়। আর দাদার বাসা বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলায়। ছোট বেলায় ছুটি পেলে দাদার বাসায় ঘুরতে যাওয়া হতো। তখন ফাইনাল পরীক্ষার সময় ধান কাটার মৌসুম আসতো আর আমি ভাবতাম যখন বড়ো হবো তখন আমিও ধান কাটা দেখতে যাবো। তখন শীতে পিঠা পুলির আয়োজন করা হতো বাসায়। আর এখন কাজের ব্যাস্ততায় ছুটি তেমন পাইনা বললেই চলে। মা বাবাও এখন ঢাকায় থাকেন,ছুটি পেলে তাই আর গ্রামেও যাওয়া হয়না, ধান কাটাও দেখা হয়না, পিঠা পুলির আয়োজনেও শরীক হতে পারিনা। বলা যায় জীবনটা শহরমুখী হয়ে গেছে।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ স্যার শিক্ষকতা জীবনের প্রথম দিনটি কি মনে আছে ?

ড. মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খানঃ অবশ্যই মনে আছে (হাসি)। আমাদের ডিপার্টমেন্টের নাম ছিলো ফিজিওলজি,ফার্মাকোলজি এন্ড বায়োকেমেস্ট্রি।আমাকে প্রথম দিন বলা হলো ফিজিওলজির হরমোন চেপ্টার টার ক্লাস নিতে। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে ফিজিওলজিততে আমি একটা চ্যাপ্টারই বাদ দিয়েছিলাম,সেটা হলো হরমোন।আর আমাকে সেদিন বলা হলো হরমোন নিয়েই ক্লাস নিতে। আমি ক্লাসে গেলাম,হরমোন নিয়ে আলোচনা শুরু করলাম। সেখান থেকে মেটাবলিজম এ টার্নওভার করি, ছাত্ররা ভাবল আমি বোধহয় অনেক উচু লেভেল এর ক্লাস নিচ্ছি। কিন্ত আসল ব্যাপার টা বুঝতে পারেনি (হাসি) ।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ শিক্ষকতা জীবনে আপনার মজার কোনো স্মৃতি?

ড. মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খানঃ আসলে আমি তো সব সময়ই মজা করতে পছন্দ করি, আর শিক্ষকতা আর প্যাশন, তাই সব সময়ই মজা পাই। তবে মজার স্মৃতি বলতে গেলে যখন সিভাসু তে শিক্ষক ছিলাম। সেখানে প্রতি বছর শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের পুরস্কার দেয়া হত। আমি সেখানে দু বছর ছিলাম এবং দুবারই শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের পুরষ্কার অর্জন করি।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ অবসর সময়ে কি করেন?

ড. মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খানঃ আসলে অবসর তেমন একটা পাওয়া হয়না। শিক্ষকতার জীবনে ফুরসত পাবার সুযোগ একটু কমই। আর ফ্রি সময় গুলোতে রিসার্চ এ সময় দেই। ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার চেষ্টা করি। দেশের খবর রাখার চেষ্টা করি। ছোট থেকেই আমার সাধারণ জ্ঞানে অনেক আগ্রহ। আজ অবধি এই আগ্রহটুকু কমেনি।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ স্যার ভবিষ্যতে এ সিকৃবি কে কোথায় দেখতে চান?

ড. মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খানঃ ভবিষ্যতে এই বিশ্ববিদ্যালয় আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। কৃষি গবেষণার ক্ষেত্র গুলো আরো বিকশিত হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এ অনেক মাস্টার্স এর আবেদন করছে। এতেই বোঝা যায় আমাদের লেখাপড়ার মান দিন দিন বাড়ছে। আগামীতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মাঝে আমরা সামনের কাতারে থাকব বলেই আমার বিশ্বাস। আর যে লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে সে লক্ষ্য আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি এবং আগামীতে এ লক্ষ্য পুরোপুরি পূরণ হবে বলে আমি আশা রাখি।

এগ্রিভিউ২৪.কমঃ ধন্যবাদ স্যার ।

ড. মোহাম্মদ মেহেদী হাসান খানঃ ধন্যবাদ তোমাকে এবং এগ্রিভিউ২৪.কম কে ।

About Editor

Check Also

Research Assistant পদে নিয়োগ দিচ্ছে IRRI

এগ্রিভিউ২৪ জব ডেস্ক :  International Rice Research Institute (IRRI)-তে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। বিডিজবসের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *