Monday , June 25 2018
Home / প্রথম পাতা / “ঢাবির পদার্থ বিজ্ঞান ছেড়ে সমন্বিত DVM (Combined) পড়া আমার জন্য ভুল হয়নি”-একান্ত সাক্ষাৎকারে ডাঃ বায়েজিদ

“ঢাবির পদার্থ বিজ্ঞান ছেড়ে সমন্বিত DVM (Combined) পড়া আমার জন্য ভুল হয়নি”-একান্ত সাক্ষাৎকারে ডাঃ বায়েজিদ

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি)  তথা তৎকালীন সিলেট সরকারি ভেটেরিনারী কলেজ(সিসভেক) এর প্রথম ব্যাচের ছাত্র, এই বছর সিকৃবিতে ভেটেরিনারী ডে তে যাদের উদ্যোক্তা এওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে তাদের অন্যতম , কর্পোরেট জগৎ এর পরিচিত মুখ, অনুকরণীয় উদ্যোক্তা ডক্টরস ফিড লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাঃ এস.এম.বায়েজিদ হোসাইনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এগ্রিভিউ২৪.কম  এর  প্রকাশক মনজুর কাদের চৌধুরী, সাথে ছিলেন সহকারি প্রকাশক মাহফুজ রহমান আদনান।

এগ্রিভিউ২৪.কম :  আপনার উদ্যোক্তা (Entrepreneur) হিসেবে শুরুটা কিভাবে?

ডাঃ বায়েজিদঃ শুরুটাতো মনে করুন, বেসরকারি চাকরি করেছি সবসময়।এখানে থাকলে উদ্যোক্তা হওয়ার টার্গেটই থাকে, সরকারি চাকরিতে গেলে লাইফস্টাইল ঐভাবেই চলে যায়। প্রাইভেট সেক্টরে আমরা নিজেরাই সবকিছু করেছি। যেমন আমি অনেকগুলো কোম্পানিতে চাকরি করেছি। সর্বশেষ কোম্পানির জিএম ছিলাম। সার্বিক তত্ত্বাধায়ন করেছি, কোম্পানির প্রথম থেকে শেষ, সব দেখাশোনা করেছি। সেই অভিজ্ঞতাই আসলেই কাজে লাগে। আমার ফিড মিল শুরু করতে অনেক সময় লেগেছে কারণ বিনিয়োগ(ইনভেস্ট) লাগে অনেক বেশি(হিউজ)। আসতে একটু দেরি হয়েছে কারণ টাকা জমাতে হয়েছে। পুরো বিশাল উদ্যোগ নিয়ে নিজস্ব ফিড মিল শুরু করেছিলাম এখন ব্যাংকেরও অনেক সাপোর্টও পাচ্ছি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে “তেলা মাথায় তেল দেয়”, শুরুর দিকে ঠিকে থাকা অনেক কঠিন। পরে এসে ব্যাংকসহ সবাই সাপোর্ট দেয়। এখন আমাদের বেশ সাপোর্ট পাচ্ছি। প্রথমদিকে মার্কেটে টিকে থাকা কঠিন। আমরা অভিজ্ঞ ছিলাম, মনোবল ছিল, তাই এগিয়ে যাচ্ছি। সামনে আরও ফ্যাক্টরি করবো, তারপরে ব্রিডার ফার্ম করব ইনশাল্লাহ।

এগ্রিভিউ২৪.কম :  আপনার ছোটবেলায় স্বপ্ন কি ছিল?

ডাঃ বায়েজিদঃ আরে ছোটবেলা … (হাসি)। সবাই তো ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। আসলে, আমাদের সবকিছু নতুন পেয়েছিলাম। বৃত্ত ভরাট করে পরীক্ষা, বৃত্ত ভরাট করে ফরম পূরণ… সবই শুরু হল, আমাদের সময়। আমাদের সময়েই মেডিকেলে চান্স পেতে লিখিত পরীক্ষা পাশের পর ভাইবা শুরু হল, আমি লিখিত চান্স পেয়েছিলাম। ভাইবায় বাদ পড়া। দ্বিতীয়বার চেষ্টা করিনি। আসলে সমন্বিত DVM (Combined) দেখে সেখানে যাওয়া। দুইটি বিষয় একসাথে পাচ্ছি। চাকরি-টাকরি ভালো পাব। জন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে। ব্যবসা করব, কখনোই মাথায় আসেনি। চিন্তা করেছি পড়ালেখা করে ভেটেরিনারি সার্জন(ভিএস) হব।

এগ্রিভিউ২৪.কম কিভাবে এই ডিগ্রি সম্পর্কে জেনেছিলেন?

ডাঃ বায়েজিদঃ আমরা তো জানতামই, বাকৃবিতে ডিভিএম আছে। যখন মেডিকেলের লিখিত টিকে ভাইবাতে বাদ পড়লাম, তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি। সেখানে আমার এক খালাতো ভাই ছিল। সে বললো দেখ, সমন্বিত কোর্স শুরু হচ্ছে।মনে হয়, ভালো হবে। আমাদেরতো আসলে ডিভিএম না। এনিমেল হাজব্রেন্ড্রি ও ডিভিএম … কম্বাইন্ড নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এই দুইটি বিষয় দেখেই আমরা মুলত ভর্তি হয়েছিলাম। আমরা প্রায় সবাই অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ছিলাম। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে(ঢাবি)পদার্থ বিজ্ঞানে ভর্তি ছিলাম!

এগ্রিভিউ২৪.কম : পদার্থবিজ্ঞান ছেড়ে যাওয়ায় লাভ নাকি ক্ষতি হয়েছে?

ডাঃ বায়েজিদঃ প্রথমে গিয়ে তো আমরা সবাই হতাশ! কিছুই নাই আসলে। না আছে শিক্ষক, না আছে পড়ার মতো পরিবেশ! অনেকদিন শিক্ষক ছিলেন না, পরে নজরুল স্যার আসলেন। তিনিই সব পড়াইতেন। আরও একজন ম্যাডাম ছিলেন, কাশেম স্যার ছিলেন… চার-পাঁচজন শিক্ষক নিয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে চলা । আসলে এখন আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ঠ। এই লাইনে না হলে এখানে আসতে পারতাম না। অন্য বিষয় পড়লে এ জায়গায় আসতে পারতাম না এতো কম সময়ে। তাই আসলে লাভই হয়েছে।

এগ্রিভিউ২৪.কম : একজন ডিভিএম গ্র্যাজুয়েট উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?

ডাঃ বায়েজিদঃ আমি মনে করি, কম্বাইন্ড ডিভিএম দ্বারা সম্ভব। কারণ তাঁরা ফিল্ড লেভেলে কাজ করে। কোন লেভেলে কিভাবে কাজ হচ্ছে। ফিল্ডে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিতে গিয়ে সব দেখা হয়, জানা হয়। লাভ-ক্ষতি বুঝা সম্ভব। ফিল্ড সম্পর্ক, হেড অফিসে সম্পর্ক… সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে যারা থাকে, তাঁদের দ্বারা সম্ভব। সব বিষয়েই জ্ঞান থাকে। আমি ডিভিএম পড়েছি বলেই সম্ভব হয়েছে কিন্তু এমবিবিএস কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়লে সম্ভব হতো না। আমি মনে করি ছোট ছোট কাজ নিষ্ঠার সাথে করে এগিয়ে যাওয়া সহজ।

এগ্রিভিউ২৪.কম : সরকারি সেক্টরে না গিয়ে প্রাইভেটে আসলেন কেন?

ডা.বায়েজিদঃ আসলে বিসিএস এর পরীক্ষা দেওয়ার আগেই প্রাইভেটে চাকরি নিছি, বেতন ছিল বেশি, তারচেয়েও বড় কথা কাজের মূল্যায়ন ছিল। আসলে গরিব মহিলাদের সাহায্য করে আউটপুট আনা, আমার এটায় আগ্রহ জন্মে গিয়েছিল, বেতনটাও ছিল বেশি। আর তখন অনেক সরকারি বিসিএসদের কাছে ইন্টার্নী করার সুবাদে দেখেছি, সন্তুষ্ঠি(সেটিসফেকশন) ছিল না সরকারি চাকরিতে। তখন ভাবলাম, পাইভেটেও ভালো করা সম্ভব। আর কাজের কারনে মূল্যায়ন পেয়েছি তাড়াতাড়ি। তাই আরকি এখানে থেকে গেছি।

এগ্রিভিউ২৪.কম : ক্যাম্পাস জীবনের কোন স্মৃতি?

ডাঃ বায়েজিদঃ এটাতো পুরোটাই স্মৃতির। সবই মধুরই আরকি … (হাসি) যাওয়ার পরই শিয়ালের ডাক শোনতাম। রাতে বের হইছি টিলাগড়ের দিকে যাব… বানরের এক দল সামনে। ফিরে চলে এসেছি ভয়ে। আমাদের সময় আসলে এখনকার মতো এতো সিস্টেম ছিল না। এখন ছেলে-মেয়ে প্রায় সমান! আমাদের সময় মোট চারটি মেয়ে ! … (হাসি) এখন তো মেয়েরা সাবলীলভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করে। আমাদের সময় চারটি মাত্র মেয়ে! প্রথম বছর একটি মেয়ের সাথে অনুষ্ঠানে অভিনয় করলাম… পরের বছর ওর সম্পর্ক হয়ে গেছে… তারপরতো মেয়েরা আর প্রোগ্রামে পারফরমেন্স করে না। (হাসি)

এগ্রিভিউ২৪.কম : বর্তমানে আমাদের পোল্ট্রি সেক্টরের কি অবস্থা?

ডাঃ বায়েজিদঃ আসলে পোল্ট্রি সেক্টরকে সরকার ঠিক ঐভাবে দেখে না, হঠাৎ করে ডিমের দাম কমে যায়, বাচ্চার দাম বেড়ে যায়… এগুলো দেখার কেউ নেই। খামারিদের দেখার কেউ নেই। ডিম আর মুরগি ছাড়া বাংলাদেশ অচল কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। বাচ্চার দাম একটি নির্দিষ্ট লেভেল পর্যন্ত রাখা, ডিমের দাম একটি নির্দিষ্ট পর্যন্ত রাখা … এতো দামে বাচ্চা কিনে গরিব খামারিরা তো ক্ষতিতে পড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে, পুরো ইন্ড্রাস্টিতে। গরিব খামারিদের তো লাভের দরকার ছিল। যাতে বেকারত্ম দূর করার জন্য এখানে আসে। কিন্তু সরকারের সবই আছে, মন্ত্রী আছে … ব্যাপারটি নিয়েন ভাবেন না। খামারিদের উপর ঋণের বোঝা বেড়ে যায়। তাঁদের তো নূন্যতম একটা লাভ দরকার ছিল। পুরো দুদোল্যমান বাজারটা। পুরো সিন্ডিকেটে চলে সব কিন্তু নজরদারি নাই। সরকারের উচিৎ বাচ্চার দামের একটা সীমা নির্ধারন করে দেওয়া। কৃষক কোন অবস্থায় আছে… এটা দেখার কেউ নাই। এটা করতে পারলে সেক্টর টেকশই হবে।

এগ্রিভিউ২৪.কম  : আপনার কোম্পানি “ডক্টরস ফিড লিমিটেড” কে দশ বছর পর কোথায় দেখতে চান?

ডাঃ বায়েজিদঃ মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য একটা ভালো প্রোডাক্ট হিসেবে যেন থাকে “ডক্টর ফিডস”। আমি ব্যক্তিগতভাবে যেগুলোতে চাকরি করেছি নারিশ অন্যতম ।আমি সেখানের মালিকের একটা গল্প বলি। আমি দেখতাম, উনি সেখানে বাচ্চার একটা ফিক্সড দাম রাখতেন। আয় থাকতো কিন্তু তার একটা নীতিগত ব্যাপার ছিল… এই দামের উপরে যাব না। আমিও যেন জোয়ারে গাঁ না ভাসিয়ে দিয়ে মানুষের খেজমত করতে পারি এবং ব্যবসা করতে পারি। আমারতো টাকা কম। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ… ফিল্ড বড় হচ্ছে।

এগ্রিভিউ২৪.কম : ধন্যবাদ, আপনাকে।

ডাঃ বায়েজিদঃ ধন্যবাদ আপনাদেরকেও।

About Publisher

Check Also

আদার পুষ্টি ও স্বাস্থ্যগুণ এবং ব্যবহারের সতর্কতা

এগ্রিভিউ২৪ এক্সক্লুসিভ ডেস্ক:আদা একটি উদ্ভিদ মূল যা মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় । মশলা জাতীয় …

12 comments

  1. S.M. Ekramul Huque

    Thanks to Dr. Biazid. Very impressed his exprience and vision. One point I differ with him and that is chicks price. I think farmers can comtrol the price of chicks by desiding at which price they will purchase the chicks. It is proven that if the farmer purchase chicks with more than 70tk in normal production condition, the probality of being loss is more than 50%. The chicks producers has to sale there chicks to farmers via agents. If they deside that they will not buy if the price is more than 55(a resonable price in normal condition is 45 to 50) then the price may not increase abnormaly. I think in open market all has right to take decision regarding product pricing and purchase.

    Ekram

  2. আজাদ রহমান

    অনেক ভালো লাগছে আমাদের অগ্রজদের সাফল্যের খবর পড়ে। একদিন অন্য কারো সাফল্যগাথা নিয়ে আবারো এগ্রিভিউ২৪ আমাদের মাঝে হাজির হবে, এই প্রত্যাশা। শুভ কামনা বায়েজিদ ভাইয়ের জন্য।

    • Thanks… More to come soon…

    • Monzur Kader Chowdhury

      আমরা চাই তরুনদের অনুপ্রাণিত করতে। একমাত্র তরুনরাই প্রাণিসম্পদ সেক্টরের আশার প্রদীপ…
      আপনাকে ধন্যবাদ।

  3. Nibedita Mallick

    Nice to read something like this of a senior brother, go ahead dear Baizid vai.

  4. Congrats .very very good information for veterinarian .this type of practical conversation wiw
    Will help to encourageing to establish this sector in proper way .i wish access for Doctors feed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *