Tuesday , November 20 2018
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / গরু মোটাতাজাকরণের বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি

গরু মোটাতাজাকরণের বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি

সামনে কোরবানির ইদ। এ সময় গবাদি প্রাণির চাহিদাকে সামনে রেখে যারা গরু মোটাতাজাকরণে আগ্রহী তাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেয়া দরকার। গরু মোটাতাজাকরণ বা বীফ ফ্যাটেনিং (Beef Fattening) বলতে এক বা একাধিক গরু বা বাড়ন্ত বাছুরকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নত সুষম খাবার সরবরাহ করে এবং বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঐ গরুর শরীরে অধিক পরিমাণ গোস্ত /চর্বি বৃদ্ধি করে বাজারজাত করাকেই বুঝায়। বয়সের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ৯০ দিনের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায় তবে অনেক সময় পরিস্থিতিভেদে ১২০-১৪০ দিনও লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচা ঘাস পাওয়া যায়। দেশের মাংসের ঘাটতি পূরণ ও বর্ধিত জনসংখ্যার কাজের ব্যবস্থা করতে বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজাকরণ ব্যবসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ঈদের কিছুদিন আগ থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক। এজন্য দরকার গরু মোটাতাজাকরণে সঠিক ব্যবস্থাপনা। তাই এটি কখন ও কিভাবে করলে বেশি লাভবান হওয়া যায় তার আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নিম্নে আলোচনা করা হলো-

মোটাজাতকরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিষয়সমুহঃ

গরু নির্বাচনঃ বিশুদ্ধ জাতের গরু অপেক্ষা সংকর (CROSS) জাতের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি তাড়াতাড়ি হয় বলে সংকর জাতের গরু নির্বাচন করা ভালো। তবে দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণও লাভজনক।
দুই-আড়াই (২-২.৫) বছরের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন মোটাতাজাকরণের জন্য বেশি ভালো।এঁড়ে বাছুরের দৈহিক বৃদ্ধির হার বকনা বাছুরের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে।বাছুরের শিরদাঁড়া সোজা, বুক চওড়া ও ভরাট, পেট চ্যাপ্টা ও বুকের সঙ্গে সমান্তরাল, মাথা ছোট ও কপাল প্রশস্ত, চোখ ভেজা ও উজ্জ্বল, পা খাটো প্রকৃতির ও হাড়ের জোড়াগুলো স্ফীত, পাঁজর প্রশস্ত ও বিস্তৃত হতে হবে।
কালো ও গাঢ় লাল রঙের গরু বাছাই করতে হবে। এতে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে।
ঢিলে চামড়া বিশিষ্ট, পাতলা অথচ সুস্থ রোগহীন গরু বাছাই করতে হবে।
তবে… কেনার পর গরুর শরীরে কোনো ক্ষত থাকলে সে স্থানে পভিসেপ বা স্যাভলন দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার করে তা না শুকানো পর্যন্ত নেগোভোন মলম লাগিয়ে প্রয়োজনে ব্যাণ্ডেজ করে রাখতে হবে, যাতে ক্ষত স্থানে মশা-মাছি কিংবা ময়লা জমতে না পারে।ক্ষত সেরে যাওয়ার পর গরুর গায়ের সেসব পরজীবী যেমন-উকুন, আঠালি, সিঁদুর পোকা ইত্যাদি মুক্ত করতে হবে।
স্থান নির্বাচনঃ গরুর আবাসস্থল স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হচ্ছে- শুষ্ক ও উঁচু জায়গা হতে হবে, যাতে খামার প্রাঙ্গণে পানি না জমে থাকে; খোলামেলা ও প্রচুর আলো-বাতাসের সুযোগ থাকতে হবে। ঘরের মেঝে ইট বিছানো বা পাকা হতে পারে তবে মসৃণ করা যাবে না। কাঁচা মেঝেতেও গরু পালন করা যায়। ঘরের মেঝের একদিকে ঢালু করতে হবে যাতে গোবর ও মুত্র ড্রেন দিয়ে দূরে গর্তে ফেলা যায়। খামারে কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদিত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণের জন্য যোগাযোগ সুবিধা থাকতে হবে। পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে। সুষ্ঠু নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে, যেমন- পানি, মলমূত্র, আবর্জনা ইত্যাদি। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সম্প্রসারণের সুযোগ থাকতে হবে।

গরু কেনার পরপরই, একটি গরুর জন্য Negopox® পাউডার প্রতি কেজি পানিতে ১/২ চা চামচ মিশাতে হবে। তারপর বসতি থেকে কিছুটা দূরে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে প্রথমে ভালোভাবে নিজের নাক-মুখ বেঁধে, গরুর কান, চোখ, মুখ ছাড়া লেজের গোড়া, শরীরের সঙ্গে পায়ের সংযোগস্থলসহ সকল সংকীর্ণ জায়গায় এবং গোয়ালের সর্বত্র ওষুধ মিশ্রিত পানি দিয়ে ভিজিয়ে বা লাগাতে হবে। ওধুষ লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট অপেক্ষা করার পরে পরিস্কার পানি দ্বারা শরীরের সর্বত্র ভালোভাবে ধুয়ে ওষুধমুক্ত করতে হবে। ওষুধ লাগানোর ২/১ দিন পর যদি দেখা যায় ভালোভাবে বাহ্যিক পরজীবী মুক্ত হয়নি তবে ১৫ দিন পরে আবার একই নিয়মে ওষুধ লাগাতে হবে।

সর্তকতা ঃ –যে ব্যক্তি ঔষুধ লাগাবেন, তিনি গরুর শরীরের ক্ষতস্থান সম্পর্কে সচেতন থাকবেন, কারণ এই ঔষুধ বিষ জাতীয়।
গরুর শরীরে ক্ষতস্থানকে (যদি ভালোভাবে না শুকিয়ে থাকে) এড়িয়ে ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে।
গরুকে ঔষুধ প্রয়োগের পর ভালোভাবে গোসল করিয়ে উক্ত স্থান থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে মুখের বাঁধন খুলতে হবে কারণ গরু স্বভাবত ঔষুধ লাগা ঘাস বা পানি খেয়ে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।

গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য তালিকা নিচে দেওয়া হল:

ক) শুকনো খড়: দুই বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনো খড় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে কেটে একরাত লালীগুড়/চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে। পানি: চিটাগুড় = ২০ : ১।
খ) কাঁচাঘাস: প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্যজাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কালাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।
গ) দানাদার খাদ্য: প্রতিদিন কমপক্ষে ১ থেকে ২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।

নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যে তালিকা দেওয়া হল:

১. গম ভাঙা/গমের ভূসি-৪০ কেজি;
২. চালের কুঁড়া-২৩.৫ কেজি;
৩. খেসারি বা যেকোনো ডালের ভূসি-১৫ কেজি:
৪. তিলের খৈল/সরিষার খৈল-২০ কেজি; লবণ-১.৫ কেজি।
তাছাড়াও বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস ব্লক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হচ্ছে ৩৯ ভাগ চিটাগুড়, ২০ ভাগ গমের ভূসি, ২০ ভাগ ধানের কুঁড়া, ১০ ভাগ ইউরিয়া, ৬ ভাগ চুন ও ৫ ভাগ লবণের মিশ্রণ।

উল্লিখিত তালিকা ছাড়াও বাজারে প্রাপ্ত ভিটামিন মিনারেল মিশ্রণ (যেমন- Ranmix Total®), এন্টিবায়োটিক (যেমন- Oxysentin® ২০% @ ১গ্রাম/কেজি) ও বাজারে প্রচলিত খাবার সোডা, ১% হারে খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস ব্লকও ব্যবহার করা যেতে পারে।

গরুকে সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে মিশ্রিত উন্নত খাবার দিতে হবে-

১। আঁশ বা ছোবড়া জাতীয় জাতীয়-খাদ্যের সাথে মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে

২। দানাদার জাতীয়-খাদ্যের সাথে সরাসরিভাবে এবং

৩। ইউরিয়া মোলাসেস ব্লকের মাধ্যমে ।

বিভিন্ন প্রকার খাবারঃ
খড়ের সাথে মিশিয়ে ইউরিয়া খাওয়ানোর নিয়মঃ ১০ কেজি খড় (ইউ.এম.এস.) প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ৫ লিটার পানি, চিড়াগুড় ২.৫ কেজি এবং ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া পলিথিনের উপর বা পাকা মেঝের উপর স্তরে-স্তরে সাজিয়ে ভালভাবে উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে সমস্ত উপাদান মেশাতে হবে, যা একবারে বা সংরক্ষণ করে ২-৩ দিনের মাঝে খাইয়ে শেষ করতে হবে। গরুকে প্রথমে দৈনিক ৫ গ্রাম থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০-৬০ গ্রাম ইউরিয়া খাওয়ানো যায়। ছোট গরুর ক্ষেত্রে ৩০-৪০ গ্রামের বেশী দৈনিক খাওয়ানো উচিত নয়। দানাদার খাদ্যে ইউরিয়া ব্যবহার করে ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গবাদি পশুর দৈনিক খাদ্যের তালিকা নিন্মরুপ-

ধানের খড় = ২ কেজি
সবুজ ঘাস = ২ কেজি (ঘাস না থাকলে খড় ব্যবহার করতে হবে)
দানদার খাদ্যে মিশ্রন = ১ – ২ কেজি
ইউরিয়া = ৩৫ গ্রাম (নিয়মানুযায়ী)
চিটাগুড়া = ২০০-৪০০ গ্রাম
লবণ = ২৫ গ্রাম
দানাদার খাদ্যের সাথে লবন, ইউরিয়া, চিটাগুড় এক সাথে মিশিয়ে দিনে ২ বার দিতে হবে। ধানের খড় এবং কাঁচা ঘাস ছোট ছোট করে কেটে এক সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

খাওয়ানের পরিমানঃ প্রতিটি গরুকে তার দেহের ওজন অনুপাতে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। গরুর ওজনের শতকরা ২-৩ ভাগ পরিমাণ খাবার (Dry Matter) সরবরাহ করলেই চলবে।

খাওয়ানোর সময়ঃ গরুকে দানাদার মিশ্রণটি এবারের না খাইয়ে ২ ভাগে ভাগ করে সকালে এবং বিকালে খাওয়াতে হবে।

পানিঃ প্রতিটি গরুকে পর্যান্ত পরিমানে পরিস্কার খাবার পানি সরবরাহ করতে হবে।

এছাড়াও মোটাতাজা করনের গরুকে সর্বক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ জাতীয় খাবার (খড়, কাঁচা ঘাস) এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে হবে। গবাদীপশুকে ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রদানে কিছু কিছু সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত।

এক বছরের নিচে গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না।
কখনও মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না
অসুস্থ গরুকে ইউরিয়া খাওয়ানো যাবে না, তবে দূর্বল গরুকে পরিমাণের চেয়ে কম খাওয়ানো যেতে পারে।
ইউরিয়া খাওয়ানোর প্রাথমিক অবস্থা (৭ দিন পর্যন্ত পশুকে ঠান্ডা ছায়াযুক্ত স্থানে বেঁধে রাখতে হবে এবং ঠান্ডা পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। প্রকল্প মেয়াদ তিন মাস, শুরু হবে ইউরিয়া মিশ্রিত খাবার প্রদানের দিন থেকে।
এই খাবার খাওয়ানো শুরুর ১০-১৫ দিন পর ইনজেকশন Catophos® বা Catopen® (১৫-২০ মিলি করে) মাংসপেশীতে প্রতি ১৪ দিন পরপর প্রয়োগ করলে মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

উল্লেখিত তিনটি পদ্ধতির মধ্যে খড়ের প্রক্রিয়াজাত করে ইউরিয়া খাওয়ানো সহজ, ব্যয় কম এবং ফল ভালো আসে। এই প্রকল্পগুলো বিভিন্ন বয়সী হতে পারে। যেমন ৩ বা ৪ মাস মেয়াদি। নির্ভর করছে খামারি কেনা গরুটি কি রকম মোটা করে কি দামে বিক্রি করবেন। দাম বেশি চাইলে প্রকল্প মেয়াদ দীর্ঘ হবে এবং কম চাইলে প্রকল্প মেয়াদ স্বল্প হবে। তবে অনেকেই ঈদের বাজারকে চিন্তা করে তার ৪/৫ মাস আগে থেকে প্রকল্প শুরু করেন।

কৃমিমুক্তকরন : রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানদের নির্দেশনা মত কৃমির ঔষধ ব্যবহার করতে হবে। গরু সংগ্রহের পর পরই পালের সব গরুকে একসাথে কৃমিমুক্ত (বিশেষ করে গোল কৃমি ও কলিজা বা পাতা কৃমি) করা উচিত। তবে প্রতি ৭০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি করে ENDEX® বা LT-Vet® টাবলেট অথবা প্রতি ১২০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১ টি Tetranid® ব্যবহার করা যেতে পারে।

টিকা প্রদান : পূর্ব থেকে টিকা না দেওয়া থাকলে খামারে আনার পরপরই সবগুলো গরুকে তড়কা, বাদলা এবং ক্ষুরা রোগের টিকা দিতে হবে। এ ব্যপারে নিকটস্থ পশু হাসপাতলে যোগাযোগ করতে হবে।

রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা : কেনার পর গরুকে ৭ দিন আলাদা রাখতে হবে। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে প্রাণির গোসল করাতে হবে। গোশালা ও পার্শ্ববর্তী স্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিতভাবে গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে। বাসস্থান সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে। রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে। খাবার পাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে অবশ্যই পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কোনোভাবেই কোনো গ্রোথ হরমোন (Dexamethasone জাতীয় ঔষধ) ব্যবহার করে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণের উদ্যোগ নেওয়া যাবে না। এসব ঔষধের ব্যবহার ছাড়াও স্বাভাবিক ও জৈব পদ্ধতিতেই গরু মোটাতাজাকরণ সম্ভব। এজন্য দরকার শুধু কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা।

বাজারজাতকরণ : মোটাতাজাকরণ গরু লাভজনকভাবে সঠিক সময়ে ভালো মূল্যে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ হচ্ছে আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়। বাংলাদেশে বিক্রয়যোগ্য গবাদিপ্রাণির বাজার মূল্যেও মৌসুমভিত্তিক হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কাজেই একজন প্রতিপালককে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অবশ্যই গরুর ক্রয় মূল্য যখন কম থাকে তখন গরু ক্রয় করে বিক্রয় মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে বিক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণত কোরবানির ঈদের সময় গরুর মূল্য অত্যধিক থাকে এবং এর পরের মাসেই বাজার দর হ্রাস পায়। তাই এখন গরু মোটাতাজাকরণের উপযুক্ত সময়। তবে গরু বিক্রির কমপক্ষে ২ সপ্তাহ আগে থেকে সব ধরনের ভিটামিন ও এন্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। স্বল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ার সহজ এবং সুবিধাজনক উপায়ের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী পদ্ধতি। তাছাড়া বর্তমানে সারাবছরই মাংসের বাজার দর স্থিতিশীল থাকায় গরু মোটাতাজাকরণ ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলে লাভবান হওয়া যায়। স্থানীয় হাট-বাজার ও শহরে গরুর মাংসের চাহিদা খুব বেশি।

দৈহিক ওজন নির্ণয়ঃ মোটাতাজাকরন প্রক্রিয়ায় গরুকে দৈহিক ওজন নির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কেননা গরুর খাদ্য সরবরাহ,ঔষধ সরবরাহ ইত্যাদি কাজগুলো করতে হয় দৈহিক ওজনের ভিত্তিতে। গরুর ওজন নির্নয়ের জন্য গরুকে সমান্তরাল জায়গায় দাড় করাতে হবে এবং ছবির নির্দেশিকা মোতাবেক ফিতা দ্বারা দৈর্ঘ্য (L) ও বুকের বেড়ের (G) মাপ ইঞ্চিতে নিতে হবে। এই মাপ { L (ইঞ্চি) x G2(ইঞ্চি)} ÷ ৬৬০} = ওজন (কেজি) সূত্রে বসালে গরুর ওজন পাওয়া যাবে।

কখনোই অসাধু উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করবেন না।। প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরন করুন, এটি একটি লাভজনক ব্যবসা।

About Editor

Check Also

জয়পুরহাটে চলছে আমন ধান কাটা-মাড়াই

ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় হাসিমুখে মহা ধুমধামে রোপা আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু করেছেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *