Tuesday , February 19 2019
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / আমার ক্যাম্পাস / ভিয়েতনামে দেশের পতাকা নিয়ে বাকৃবির তন্ময়

ভিয়েতনামে দেশের পতাকা নিয়ে বাকৃবির তন্ময়

বাকৃবি প্রতিনিধিঃ তন্ময় কুমার ঘোষ। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ছাত্র। সবেমাত্র ২ জুন স্নাতক পর্ব শেষ হয়েছে । একজন তরুণ প্রতিভাবান। নিয়ম-নীতির পড়ালেখার গন্ডির বাইরেও রয়েছে তার পথচলা।

বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় রয়েছে তার অংশগ্রহণ ও সাফল্যর ইতিহাস। ভালো ড্যান্সও পারেন তিনি। ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘পদচিহ্নে’ রয়েছে তার পদচারণা। সম্প্রতি তিনি সিনজেনটা-ইউএসএআইডি কানেশন প্রোগ্রাম ২০১৭ বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত ৩ জন ছাত্রের মাঝে একজন । সিভি সাবমেশন, ভিডিও সাবমেশন, স্কাইফি ইন্টারভিউ (কৃষি নিয়ে প্যাশন বা চিন্তা, কর্মশালায় নতুন আইডিয়া ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়) প্রভৃতি ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত হন তিনি।  অনুষ্ঠানটি আগামী ২৫ জুন ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত হবে। নেপাল, কম্বোডিয়া, মায়ানমার প্রভৃতি দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নিবে অনুষ্ঠানে। এর জন্য ১৪দিনের সফরে যাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি ব্যাংকক কেন্দ্রিক থাইল্যান্ডের এনারগাইয়া নামক প্রজেক্টে একমাত্র বাংলাদেশী ছাত্র হিসেবে ১ বছরের জন্য ইর্ন্টানশিপের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল ফিউচার এগ্রি এন্ট্রাপ্রিনার প্রতিযোগীতা ২০১৫-তে। আইডিয়া দিয়ে সারা দেশের মাঝে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করেছিল এসিআই এগ্রিবিসনেস, ক্যাটালিস্ট ও কনসিগলিয়েরি প্রাইভেট লিমিটেড। মাছের বর্জ্য থেকে তেল, বায়োডিজেল ও সার হিসেবে মাছের অ্যামাইনো এসিড নিয়ে  আইডিয়া দিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি।geniousa tanmoy pic (7)
geniousa tanmoy pic (1)

 

 

 

 

 

 

অত:পর ২০১৬ সালে বেটার স্টোরিস লিমিটেডের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের কাছ থেকে ইনোভেশন ফান্ড পেয়ে ‘ইকোফুয়েল‘ নামক প্রকল্প শুরু করে। এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তৈরী করে পরিবেশ দূষণ রোধ করা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।

তরুণ প্রতিভাবান তন্ময় বলেন, গ্রিন হাউস ইফেক্ট আর জলবায়ু পরিবর্তন সমগ্র পৃথিবীর অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। গ্রিন হাউস ইফেক্ট আর জলবায়ু পরিবর্তন সঠিকভাবে মোকাবিলা না করতে পারলে ২০৫০ সালের দিকে বাংলাদেশের ২৫% জমি প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০৫০ সাল নাগাদ জীবাশ্ম জ্বালানির মজুদ প্রায় শেষের দিকে থাকবে। এক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানির দিকে নজর দেওয়া উচিৎ। প্রতি বছর বাংলাদেশ সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্ট আমদানি করে। সেক্ষত্রে আমরা দেশের অভ্যন্তরে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদন করতে পারলে হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশদূষণও রোধ করতে সক্ষম হবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাবে তিনি জাত্রোফা ও করচের তেল থেকে বায়োডিজেল প্রস্তুত করতে পেরেছেন। শৈবাল থকে জ্বালানি উৎপাদনের জন্যও তিনি চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বায়োডিজেল এবং বায়োইথানল অনেক বড় পরিসরে উৎপাদন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা আর গবেষণা প্রয়োজন।
geniousa tanmoy pic (6) geniousa tanmoy pic (9)

 

 

 

 

 

 

২০১৬ সালে সে বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার আয়োজিত আন্তর্জাতিক ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট ২০১৬ তে অংশগ্রহণ করে এবং সেখানে একজন গ্রাজ্যুয়েট হিসেবে স্বীকৃতি পায়। পরে বাংলাদেশের সেরা মেধাবীদের সাথে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ পুরষ্কার ২০১৬ এর একজন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ফলস্বরূপ সে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগের (ডিএফআইডি) অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার এর সহযোগিতায় ‘একুয়ালাইন‘ নামক প্রকল্প সঞ্চালনা করছে। তার প্রকল্প ‘একুয়ালাইন‘ এর মুল উদ্দেশ্য হছে মৎস্যজাত বর্জ্য হতে মূল্যবান প্রডাক্ট তৈরী করে তা বাজারে বিক্রি করা এবং লাভের অংশ মাছ বিক্রেতার মাঝে বণ্টন করে তাদের মাসিক আয় বৃদ্ধি করা। এর ফলে মৎস্যজাত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিরস্থায়ী সমাধান হবে এবং তার প্রভাব বাংলাদেশের জিডিপিতেও পড়বে যদি এই প্রকল্পটি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। কেননা দেশে মাছের খাবার তৈরী করার ৫০-৫৫% উপাদান এখনো আমদানি করা হয়। তিনি মৎস্যজাত বর্জ্য থেকে উন্নতমানের মাছের খাবার তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আশাপ্রকাশ করে বলেন, এই বছরের শেষের দিকেই তিনি তার প্রোডাক্ট বাজারজাত করতে সক্ষম হবেন।

তার এই অর্জনগুলোর পেছনে ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের তার প্রিয় শিক্ষক বিষান লাল দাস চৌধুরী ও মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন অনেক অবদান রয়েছে বলে জানান তিনি।

জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে  জানতে চাইলে সহজেই  উত্তর দিয়ে বলেন, কাড়ি কাড়ি টাকা আয় করা জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না। আমি মনেপ্রাণে চাই আমার সমাজ, দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখতে এবং ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে কাজ করে যেতে।

About Editor

Check Also

তিতাসে উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগনের ২য় শ্রেনীর মর্যাদা প্রাপ্তিতে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের দ্বিতীয় শ্রেনির সম্মান” এ স্লোগান কে সামনে রেখে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *