Monday , December 17 2018
সর্বশেষ
Home / প্রথম পাতা / আমার ক্যাম্পাস / গাভীর ওলান প্রদাহ বা ম্যাস্টাইটিস (Mastitis)

গাভীর ওলান প্রদাহ বা ম্যাস্টাইটিস (Mastitis)

রাফি, শেকৃবি থেকে ঃ  ম্যাস্টাইটিস বা ওলান প্রদাহ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুব পরিচিত এবং ভয়াবহ একটি রোগ যা গাভীর ওলানকে আক্রমন করে থাকে। ম্যাস্টাইটিস হলে গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যায়, যা আর পূর্বের অবস্থায় ফেরত আসে না। অর্থ্যাৎ, খামারে ম্যাস্টাইটিসের আক্রমন মানেই খামারীর মাথায় হাত। আসুন জেনে নেওয়া যাক ম্যাস্টাইটিস বা ওলান প্রদাহ সম্পর্কেঃ

ওলান প্রদাহ বা ম্যাস্টাইটিস কি?

গাভীর বা ছাগলের ওলানের দুগ্ধ ও বাঁটের প্রদাহকে ম্যাস্টাইটিস বা ওলান প্রদাহ বলে। এ রোগে ওলানের গ্লান্ডুলার টিস্যুর প্যাথলজিকাল পরিবর্তনের ফলে দুধের বাহ্যিক ও রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে।

bovine-mastitis-15-638

প্রচলিত নাম :-
ওলান ফুলা, ঠুনকো রোগ, থানফুলা, থানপাকা, পালান পাকা, উরোজ প্রদাহ ইত্যাদি।

রোগের কারণ :-
গাভীর ওলান প্রদাহ বিভিন্ন প্রকার অনুজীব যেমন- ব্যাকটেরিয়া, মাইকোল্পাজমা ও ছত্রাক দিয়ে হয়। সাধারণত স্ট্রেপটোকক্কাই ও স্টেফাইলোকক্কাই জাতীয় গ্রাম পজেটিভ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয় এবং সহযোগী হিসেবে ই. কলাই, করাইনিব্যাকটেরিয়াম প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া ম্যাস্টাইটিস রোগের কারণ হতে পারে। যে সকল জীবানু ম্যাস্টাইটিসের জন্য দায়ী সেগুলো হলোঃ-
Pseudomonas aeruginosa
Staphylococcus aureus
Staphylococcus epidermidis
Streptococcus agalactiae
Streptococcus uberis
Brucella melitensis
Corynebacterium bovis
Mycoplasma spp.
Escherichia coli (E. coli)
Klebsiella pneumoniae
Klebsiella oxytoca
Enterobacter aerogenes
Pasteurella spp.
Trueperella pyogenes
Proteus spp.
Prototheca zopfii (achlorophyllic algae)
Prototheca wickerhamii (achlorophyllic algae)EAP69.fig1

রোগের লক্ষণ :-
১. ওলান লাল হয়ে ফুলে ওঠে এবং হাত দিলে গরম বোধ হয়।
২. ব্যাথার জন্য গাভী ওলানে হাত দিতে দেয় না।
৩. গাভীর পিছনের পা দুটি ফাঁক করে দাঁড়িয়ে থাকে ও শুতে পারে না।
৪. শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় (১০৪-১০৭ ডিগ্রী ফাঃ) ।
৫. বাটগুলো অত্যন্ত শক্ত হয়ে যায় ও সহজে দুধ বের হয় না।
৬. দুধের রং হলুদ পুঁজের মতো দেখায় এবং পরবর্তীতে রক্ত মিশ্রিত ও দুর্গন্ধযুক্ত দুধ বের হয়।
৭. আক্রান্ত বাঁট বন্ধ হয়ে যায় এবং কোন কোন ক্ষেত্রে পঁচন ধরে খসে পড়ে।
৮. মারাত্মক অবস্থায় পৌছে গেলে প্রাণির মৃত্যু ঘটে।

চিকিৎসা :-
এ রোগের চিকিৎসা দ্রুত হওয়া আবশ্যক। চিকিৎসায় বিলম্ব হলে ওলানের মারাত্মক ক্ষতি হবার সম্ভবনা থাকে। এতে দুধ চিরদিনের জন্য কমে বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা মাত্রই নিকটস্থ ভেটেরিনারী চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা শুরু করা উত্তম।mastitis-45-638

প্রতিরোধ :-
১. দুধ দোহনের পূর্বে দোহনকারীর হাত ও ওলান জীবাণুনাশক দিয়ে ভালভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
২. দুগ্ধবর্তী গাভীকে পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন ও শুষ্ক স্থানে রাখতে হবে।
৩. দুগ্ধবর্তী গাভীর ওলান যাতে আঘাতপ্রাপ্ত না হয় সে দিকে নজর রাখতে হবে।
৪. আক্রান্ত ওলান গরম ও ফোলা থাকলে ও ব্যাথাযুক্ত হলে প্রথমে বরফ বা ঠান্ডা পানি আক্রান্ত ওলানে ঢালতে হবে।
৫. ওলানেদুধ জমে গেলে মিল্ক সাইফন নামক যন্ত্র দিয়ে বের করে দেয়া যায়।
৬. আক্রান্ত গাভীকে আলাদা করে রাখতে হবে।
৭. দুধ দোহনের পর গাভীকে খাবার দিতে হবে। কেননা দুধ দোহণের পর হতে ২ ঘন্টা পর্যন্ত বাঁটের মুখ খোলা থাকে বিধায় অতি সহজে জীবাণু এ সময় বাঁটের মুখে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়।
৮. দুধ দোহনের পর গাভীর বাঁটকে জীবাণুনাশক সলুশনে ডুবিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
৯. ওলান শক্ত হয়ে গেলে কর্পূর গুড়ো করে সরিষার তেলের সাথে মিশিয়ে বাটে লাগাতে হবে।

About Rafy

Check Also

সরিষা ক্ষেতে কৃত্রিম পদ্ধতিতে মধু চাষ করছেন নওগাঁর শিক্ষিত যুবকরা

দিগন্ত জুড়ে ফসলের মাঠ। যতদুর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ রঙে মাখামাখি। এ যেন …

3 comments

  1. We’ve the solution of preventing Mastitis. Interested Vets and dairy farm owners may contact me directly.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *