Tuesday , November 13 2018
Home / এগ্রিবিজনেস / “উদ্যোক্তা হতে হলে টাকা মুখ্য নয়” একান্ত সাক্ষাৎকারে কাজী সাইদ

“উদ্যোক্তা হতে হলে টাকা মুখ্য নয়” একান্ত সাক্ষাৎকারে কাজী সাইদ


সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি)  তথা তৎকালীন সিলেট ভেটেরিনারী কলেজ(সিসভেক) এর প্রথম ব্যাচের ছাত্র, এই বছর ভেটেরিনারী ডে তে যাদের উদ্যোক্তা এওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে তাদের অন্যতম , করপোরেট জগৎ এর পরিচিত মুখ, অনুকরণীয় উদ্যোক্তা কাজী এগ্রো লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাঃ কাজী আবু সাইদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এগ্রিভিউ২৪ এর  সহকারি সম্পাদক মনজুর কাদের চৌধুরী, সাথে ছিলেন সহকারি প্রকাশক মাহফুজ রহমান আদনান। আজকে তাঁর সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব দেয়া হল…

এগ্রিভিউ২৪ঃ Entrepreneur  হওয়ার জন্য কোন জিনিসটি মূলত দরকার?

কাজী সাইদঃ একজন উদ্যোক্তার মূল যেটি দরকার “Leadership” । আমার যতদূর মনে পড়ে আমি আমি ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় ২০-২৫ জনের একটি গ্রুপকে নিয়ে ঢাকা চিড়িয়াখানায় এসে ঘুরে গেছি। এটি কিন্তু একটি লিডারশীপের শুরু। কিছু মানুষকে direction দেয়া, মানুষকে ইমপ্রেস করা এই জিনিসগুলো ভিতরে থাকতে হয়। এটা কিন্তু একজন মানুষ বুঝতে পারে সে কেমন, নিজে ছাড়া অন্য কেউ এ জিনিসটি বুঝতে পারবে না। একজন মানুষ যদি মনে করে আমার চাকরি করাই ভালো, আমি মনে করি তাহলে তাঁর উদ্যোক্তা না হওয়াই ভালো। আমার কাছে মনে হয় Entrepreneur  and Leadership  দুইটি একই সুত্রে গাঁথা। উদ্যোক্তা মানে কিছু শুরু করা  কিন্তু শুরু করতে হলে একা তো পারা যায় না, একটি টিম নিয়ে কাজ করতে হয় just  a leadership. Entrepreneur হওয়ার জন্য কোন money বা বিশাল ইনভেস্ট লাগে বলে আমি মনে করি না। যত বড় ইন্ড্রাস্টিয়ালিস্ট দেখেন না কেন শুরুতে তাঁদের কিন্তু এতো বড় প্ল্যান বা এতো টাকা দিয়ে শুরু হয়নি।মূল জিনিসটি হচ্ছে Communication Skill, Organizing Ability, Risk Taking. আমি সবসময়ই বলি কোন মানুষ যদি তিনটি জিনিস জানে “কম্পিউটার ব্যবহার, ইংরেজী এবং ড্রাইভিং” তবে সারাবিশ্বে চলতে পারবে। একজন উদ্যোক্তারও মূল বিষয় হচ্ছে সবার সাথে মিশা, বিশ্বাসযোগ্যতা, ঝুঁকি গ্রহন। টাকা হচ্ছে পরের ব্যাপার। এই যে এখন আমার কোম্পানির এ বছরের টার্গেট ২০০ কোটি, গতবছর ছিল ১৫০ কোটি। এই ব্যবসায় কিন্তু আমার তেমন বড় কোন ধরনের ইনভেস্টমেন্ট ছিল না। আমার কিছু skill ছাড়া আর কিছুই ছিল না। মানুষের সাথে সম্পর্ক, সততা ও ঝুঁকি গ্রহনের প্রবনতা। এই গুলো থাকলে অন্য কেউ হয়তো একটা scope দিবে। সেই scope সততার সাথে কাজে লাগালেই সম্ভব উদ্যোক্তা হওয়া।

এগ্রিভিউ২৪ঃ Entrepreneur হওয়ার শুরুটা কিভাবে?

কাজী সাইদঃ পাশ করার পর সবারই হয়তো চাকরি দরকার। আমিও ইন্টার্নি থাকা অবস্থায় পাশাপাশি চাকরি করছি। সবার আগে আমিই মনে হয় প্রথম, (ব্যাচের) চাকরিতে ঢুকি (হাসি)। কিন্তু আমার কাছে কেন জানি মনে হইতো, এই চাকরি করে আমি চলতে পারব না। সকাল নয়টায় যেতে হবে, বিকেল পাঁচটায় ফিরতে হবে। এই বাঁধাধরা নিয়মটা আমার মানতে কষ্ট হতো। তবে যতদিন চাকরি করছি সততার সাথে করেছি। দেড় বছর চাকরি করেছি। এর মধ্যে চারটা চাকরি পরিবর্তন করেছি। যদিও এটা ভালো লক্ষন না। কিন্তু চারটা জায়গার চারজন মালিকের সাথেই কিন্তু এখনো আমার ভালো সম্পর্ক। চারটি কোম্পানিতে যে কয়মাসই থাকছি। খুব ভালো সম্পর্ক ছিল, কিছু দিতে চেষ্ঠা করেছি সবসময়। আমি কিছু একটা করব, এটা আমি জানতাম কিন্তু কি করব আমি জানি না (হাসি)।

এই চাকরি করার সময়ই আমি মানুষের সাথে মিশে গেছি। মিশার প্রবনতা আমার ভিতরেই ছিল। হয়তো কোম্পানিকে অর্থনৈতিক লাভবান করতে পারছি কিন্তু সম্পর্কটা আমার নিজস্ব হয়ে গেছে। তাই যখন কিছু শুরু করেছি তখন ঝুঁকি নিতে আমার কোন ধরনের পিছুটান ছিল না। ৯০ ভাগ টপ ক্লায়েন্টের সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক, তাই বিশ্বাস ছিল। আমি যদি কিছু শুরু করি তবে পারব।এখন কি নিয়ে শুরু করব? হঠাৎ করে শুরু করিনি, আমি অনেক ঘেঁটেছি, সবকিছু ঘেঁটে একটা scope পেয়ে গেলাম। সবজায়গায় প্যাকিং ম্যাটেরিয়ালস এর সংকট ছিল। ঐ সময় বাংলাদেশে হঠাৎ করে ইন্ড্রাস্টি অনেক বেড়ে গিয়েছিল কিন্তু সে অনুপাতে উন্নতমানের প্যাকিং ম্যাটেরিয়ালস নেই। সবজায়গায় কম্পিটিশন ছিল শুধু ঐ জায়গাটা ছাড়া। আমি scope পেয়ে গেলাম। সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছি। এটিই একমাত্র প্রোডাক্ট ছিল, যার সাপ্লায়ার নাই। আমি অনেক স্টাডি করলাম। পরে দেখলাম একটি নতুন ইন্ড্রাস্টি হচ্ছে এই প্রোডাক্ট তৈরি করার জন্য, পরে তাঁদের সাথে ট্যাগ হওয়ার চেষ্টা করলাম। এখন আমিতো ছিলাম নতুন। এখানে একটি মজার কাহিনি বলি । ব্যবসা যে করব, ঢাকা শহরে আমার নিজস্ব কোন ব্যবসায়িক ব্যাংক একাউন্ট ছিল না (হাসি)। এখন আমার একাউন্ট করতে কে রেফারেন্স দিবে?এটা একটা সিকিউরিটির ব্যাপার।আমাকে খুব কাছ থেকে চিনেন, এমন একজন দরকার। আমি তো আর কোন মালিককে বলতে পারিনা, আমাকে রেফারেন্স দেন।  তারা হয়তো আমাকে চিনেন ডাক্তার হিসেবে। মজার ব্যাপার আমি আমার কাজী এগ্রো এর একাউন্ট খুলছি আমি আমার গ্রামের ব্যাংকে।টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের একটি শাখায়। সপ্তাহখানেক টাকা লেনদেন করে, পরে ঢাকার ফার্মগেট শাখায় একাউন্ট স্থানান্তর করা।  আগে তো অনলাইন ব্যাংকিং ছিল না। একাউন্ট স্থানান্তর করা যেত। এটিই ঢাকায় আমার প্রথম ব্যাংক একাউণ্ট। এখন কতটি আছে ঢাটা দেখে বলতে হবে।(হাসি) তবে সবগুলোতে যে টাকা আছে তেমন না কিন্তু ক্লায়েন্টের স্বার্থে থাকা লাগে।

তবে শুরুটা সেই scope থেকেই। আমার সম্পর্ক ছিল, সততা ছিল। কারো টাকা নয়ছয় করিনি। কখনো ঐ রিস্ক নেইওনি, ওভারপ্রফিটের রিস্ক। এখনো আমরা যে প্রফিট করি, সেটা একটা স্ট্যন্ডার্ড লেভেল।

এগ্রিভিউ২৪ঃ  ছোটবেলায় কি স্বপ্ন ছিল?

কাজী সাইদঃ DVM  পড়ব, কখনোই সে স্বপ্ন ছিল না(হাসি)। আমার নেশা ছিল ইনেকট্রনিক্স। খুব ছোট ছিলাম তখন রেডিও, টিভি যারা ঠিক করে, সে রকম হওয়ার ইচ্ছে ছিল। ব্যাপারটি এ রকম, আমি রেডিও টিভির মেকার হব (হাসি)।ঠিক যে ইঞ্জিনিয়ার হব, সেটা না। বড় হয়ে আস্তে আস্তে যখন জানতে পারলাম এই সাবজেক্টে পড়াশোনা করা যায়, বিশেষকরে জাবিতে একটা সাবজেক্ট আছে ইলেকট্রনিক্স এর উপর বিশেষায়িত। আমার একমাত্র স্বপ্ন ছিল ইলেকট্রনিক্স নিয়ে কাজ করব। পরে জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স হইছিল কিন্তু সেটা নৃবিজ্ঞান। সেখানে ছিলাম অনেক দিন। আসলে পড়তে ইচ্ছে হলেই তো হয় না। আমি আসলে ইলেকট্রনিক্সের কোন পার্টস কিভাবে কাজ করে সব জানি। এখনো আমার বাসায় সব ধরনের ইলেকট্রনিক্স এর যন্ত্রপাতি আছে। এটা পুরোপুরি শখ রয়েই গেছে। ইলেক্ট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে এখনো আমি এসব মেরামত করি। যাই হোক পরে ইলেকট্রনিক্স না পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যগুলোতে ইঞ্জিনিয়ারিং চেষ্টা করি। কোনটাই হয়নি। নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার ইচ্ছেও ছিল না। পরে আমার বড় ভাই, উনি ব্যাংকে job করেন, তিনি আমাকে বললেন ভেটেরিনারি একটা বিষয় আছে। সুযোগ অনেক বেশি। এমনকি ব্যাংকেও অনেক ভেটেরিনারিয়ান চাকরি করেন, ম্যানেজার পর্যায়ে। উনি আমাকে বি সি এসের ডাটা দেখালেন, ৫০০ নিবে কিন্তু applicants ১০০ বা ১২০! আমাদের সময় এ রকম ছিল। তিনি সুযোগ বুঝালেন এবং তাঁর প্রেসারেই ডিভিএম পরতে যাওয়া। আমি জানতামই না Animal doctor হতে হলে আলাদা graduation আছে। আমি ভাবতাম ডিপ্লোমা করেই মনে হয় Animal doctor হয়। সিলেটের তো বেশিরভাগই বুঝতো না। কি বলবো, (হাসি)আমি বিশ্ববিদ্যালয় life এর শেষের দিকে বিয়ে করে ফেলি। প্রয়োজনের তাগিদেই টিউশনি নিয়েছিলাম। মানুষ জিজ্ঞেস করতো, আমাদের এই দিকে কি কলেজ-টলেজ নাই? পড়াশোনা করতে এতো দূরে কেন!

এগ্রিভিউ২৪ঃ একটি প্রতিষ্ঠানের (সিলেট ভেটেরিনারি কলেজ) প্রথম ব্যাচ হিসেবে চ্যালেঞ্জ কি রকম ছিল?

কাজী সাইদ ঃ আসলে আমাদের সময় ভর্তিপরীক্ষাটা মার্কের ভিত্তিতে হয় এবং শর্তানুসারে মূল সার্টিফিকেট জমা নিয়ে নেয়।আমি নিশ্চিত, যদি সার্টিফিকেট না আটকাতো তবে সিলেটে যাওয়ার পর ৭০ ভাগ ছাত্র ছাত্রীরা এখান থেকে চলে আসত।শুধু যে মেধাবী বলে তা না, আমরা আসলে আমরা ভর্তি হয়েছিলাম ইউনিভার্সিটি লেভেলে পড়াশোনার জন্য কিন্তু ঐখানে গিয়ে দেখি মাত্র দুইটা বিল্ডিং। ঐখানে কোন রিক্সা যাইতো না, মানুষজন যাইতো না, আমরা যখন যাতায়াত করতাম তখন দুই-তিঞ্জন মিলে যাতায়াত করতাম। আমাদের আসলে কিছুই ছিল না, সারাটা সময় গেছে শুরু আন্দোলন সংগ্রাম। আমি তো বলব আজকে ইউনিভার্সিটি বল আর যাই বলো প্রত্যেকটি ইট, কাঠের সাথে আমাদের ঘাম বা মেধার অপচয় আছে। অপচয় এ জন্য বলবো, আমরা ১৫-২০ দিন প্রিন্সিপাল রুম আটকে রাখতাম, আমরা তখন ছোট ছিলাম, আমাদের অনেকেই ব্যাবহার করতো। আমাদের কোন লাইব্রেরি নাই, শিক্ষক নাই, কারিকুলাম নাই, সার্টিফিকেট কে দিবে তাঁর ঠিক নেই। ব্যাপারটি এমন ছিল যে, কয়েকজন লোক রটায়ার্ড করছে আর একটা প্রজেক্ট দাঁড় করাইছে, কিছু টাকার জন্য। Veterinary College was like that.  শিক্ষক হিসেবে নজরুল স্যার ছিলেন, একাই সব পড়াতেন। হিস্টোলজি,এনাটমি, এমভ্রায়োলজি, ফিজিলজি… সব।

যদিও সিলেটে আমার student life was very bad but up to intermediate আমি খুবই ভালো ছিলাম।টাঙ্গাগাইল ক্যান্টপাবলিকের স্টুডেন্ট ছিলাম, পরিচ্ছন্ন জীবন ছিল। আমার মেট্রিক, ইন্টারমিডিয়েট খুবই ভালো ছিল কিন্তু সিলেটের কলেজ লাইফের সাথে মন বসাতে পারিনি। তোমরা এখন যে ক্যাম্পাসে আছ, আমি মেট্রিক-ইন্টারমিডিয়েট ঐ রকম ক্যাম্পাসে ছিলাম। আমরা ক্যাণ্ট-পাবলিকে প্রাইমারি পর্যায়ে শিখেছি, কোন শিক্ষকের ক্লাস ভালো না লাগলে পিছন দিক দিয়ে বের হয়ে যেতে পারব, ডিস্টার্ব করতে পারব না। কেন ভালো লাগেনি সেটা স্যারের সাথে পরে কথা বলা যেত। আসলে এই পর্যায় থেকে গিয়ে সিলেটে মন বসানো কঠিন। কেউ যদি আমার education background  ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত দেখে সাথে সিলেটেরটা দেখে none can match. আমি ঐখানে ছিলাম a very good student  যেখানে সিলেটে ছিলাম worst student. আমি আসলে সিলেটের (সিসভেক) education system টা মেনে নিতে পারিনি কিন্তু আমার করার কিছুই ছিল না। এমনিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়ার লস করে চলে গেছি আবার ঐদিকে সার্টিফিকেট ব্লক।ঐখানে most of the teacher আমাকে dislike করতো। স্যারদের উপর শ্রদ্ধা রেখেই বলতেছি ক্লাসের চল্লিশ মিনিট যদি সিটের কপি ব্ল্যাকবোর্ড দেখে খাতায় তুলতে হয়, তবে ক্লাসে বসে থাকার দরকার নেই। আমি Protest করতাম because I was in better education. দিনদিন তাই সেখানে depressed হচ্ছিলাম আর অপেক্ষায় ছিলাম কবে ঢাকা ফিরব। আমার করারও কিছু ছিল না। আমরা নয় ভাই-বোন। গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। এরকম সুযোগ ছিল না পাচ-দশলাখ খরচ করে প্রাইভেটে পড়ব। আমার বাবা গ্রামের কৃষক মানুষ, ছোট ব্যবসায়ী। তিনি নয়জন ছেলে মেয়েকেই বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট করেছেন! এরচেয়ে বড় স্বার্থকতা আর কি আছে!………. Continued (Keep eyes on Agriview24 for 2nd part)

About Editor

Check Also

ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন

বাকৃবি প্রতিনিধি : প্রথমবারের মতো বিশ্বখ্যাত ছোট জাতের ছাগল ব্ল্যাক বেঙ্গলের পূর্ণঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন  করা …

One comment

  1. Md Abu Raihan Tawsif

    Ma Sha Allah apnar lekha ta monojug deye pore onek balo laglo baiya

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *