Sunday , April 22 2018
Home / প্রথম পাতা / ধন্যবাদ বাবাকে

ধন্যবাদ বাবাকে

বাবাকে কখনই ধন্যবাদ দেওয়া হয়নি; হয়তো দিবও না । আজ যে কারনে ধন্যবাদ দিতে চাচ্ছি সেই একই কারনে ছাত্র জীবনে সময়-সুযোগ পেলে বাবাকে অনেক কথাই শুনিয়েছি । ১ম বার বাকৃবিতে ওয়েটিং থেকে এগ্রি ইকোনমিকে ভর্তি হতে না দেওয়া, ২য় বার ঢাকা ভার্সিটিতে ওয়েটিং থেকে ভর্তি হতে না দেওয়া কিংবা বড় আপু আর ছোট ভাইয়ের পড়ালেখার কথা চিন্তা করে প্রাইভেট কোন ভার্সিটিতে ভর্তি না করানো; সব ছাপিয়ে ১ম বার যে সিকৃবিতে ভেটেরিনারিতে ভর্তি হয়ে ক্লাস করা – এইসব কারনে ছাত্রাবস্থায় সময় সুযোগ পেলেই বাবাকে দু একটা কথা শুনাতাম। আর এখন ধন্যবাদ দিতে মন চায় ।

স্কুলের একটা মজার কাহিনী বলি । আমি সাধারনত আমার ডাক নাম কোন বন্ধুকেই বলতাম না কিন্তু তারা বাসায় এসে নামটা শুনে ফেলত।। কাওছার – কাও মানে গরু আর ছার মানে মাস্টার, কাওছার মানে গরুর মাস্টার এটা বলে খুব রাগাত তাই আমার এই ডাক নামটা বন্ধুদের বলতাম না। গরুর মাস্টার শুনতেই খারাপ লাগত তার উপর আবার গরুর ডাক্তারি পড়ব, কলেজ পাস করে এটা ভাবতেই কেমন জানি লাগত।। তার মাঝে সাবজেক্টের নাম ভেটেরি + নারী, পুরুষের বিপরীত নামটা থাকাতেও কেমন কেমন লাগত। আমার স্কুল কলেজের অনেক বন্ধুরাই ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ডাক্তার হয়েছে আবার অনেকেই প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে পাস করে চাকুরী ও করছে । আফসোস লাগত যখন দেখতাম আমি পাস করে বের হবার ২ বছর আগেই তারা প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে পাস করে বেরিয়ে চাকুরী শুরু করে দিয়েছে । তখন বাবাকে কথা শুনাতাম।।
আফসোস টা অনেকটাই কমে যায় যখন দেখলাম আমি তাদের ২ বছর পর বের হয়েও তারা ২ বছর চাকুরী করে প্রতি মাসে যা উপার্জন করছে আমার প্রথম মাসের স্যালারী তার চেয়েও বেশি। বাবার প্রতি রাগ কিছুটা কমতে শুরু করে ।

কোনটা সেরা চাকুরী সেটা নিয়ে আমি এখনো সন্দিহান। আমার এক ফ্রেন্ড যে কিনা মানুষের ডাক্তার তারে তো প্রায়ই বলতে শুনি যে ডাক্তার হয়ে আসলে ভুলই করেছি । আরেক ইঞ্জিনিয়ার বন্ধু ১ম চাকুরীর ভাইবা দিতে গিয়ে যখন শুনল যে স্যালারী ১২০০০ টাকা সেটা শুনে তো সে দেশ ছেড়েই চলে গেল। আরেক বন্ধু তো ঢাবি থেকে বোটানি তে পাস করে ৪ বছর ধরে বেকার আছে সেটাও দেখছি । আবার অনেকেই খুব ভালো আছে সেটাও অস্বীকার করছি না ।

চাকুরী জীবনের ৪র্থ বর্ষে পা দিয়েছি । স্কুল কলেজের বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বসলে মাঝে মধ্যেই স্যালারী নিয়ে কথা উঠে, আমার টা কখনই বলি না, তারা তাদের টা বলে, আমি শুনি আর মনে মনে ভাবি যে আল্লাহ তো অনেক ভালোই রাখছে ।

আমাদের বন্ধু বান্ধব কিংবা সিনিয়র জুনিয়ার কেউ পাস করে বের হয়ে বেকার আছে এমটাও শুনি নি । মাঝে মধ্যে মনে হয় এই সেক্টর টা সম্ভবত মেয়েদের জন্য না, তাদের চাকুরী পেতে কষ্ট হয়, পরক্ষনেই খুঁজে বের করলাম যে ছাত্রীরা চাকুরীর পেছনে লেগে আছে তারাও তো একটা সময় ভালো কোথাও ঢুকে যাচ্ছে, হয়ত একটু সময় লাগছে কিন্তু চাকুরী তো হচ্ছে, অন্য কোন সেক্টরে হলে কি হত ভাবতে টায়ার্ড লাগে ।

আমার বাবা আমার এই লেখা কখনই দেখবে না, আবার উনাকে ধন্যবাদও দেওয়া হবে না ।

কর্মমুখী শিক্ষায় আমাকে উতসাহিত করায়, বেকারত্বের কষ্ট বুঝতে না দেওয়ার এবং জীবন টাকে গুছিয়ে নেবার সুযোগ করে দেওয়ার বাবার জন্য একটা ধন্যবাদ জমা থাকল; আশা করি আমার ভবিষ্যত প্রজন্মই এই ধন্যবাদটা আমার বাবাকে দিবে ।

About Editor

Check Also

শেকৃবি এলামনাই এসোসিয়েশন এর অভিষেক ও পুনর্মিলনী ২০১৮ অনুষ্ঠিত

নাজমুস সাকিব, শেকৃবি প্রতিনিধিঃ জাঁকজমক পূর্ণভাবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) এলামনাই এসোসিয়েশন’র অভিষেক ও পুনর্মিলনী …

4 comments

  1. Nibedita Mallick

    but , what is the name of the editor?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *